আমাদের ভাগ্যাকাশে মুক্তির লাল সুর্য উঠবে তো?

মো. সাইফুল ইসলাম মাসুম | ০২ মে ২০২০ | ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
অ+ অ-

সারা বিশ্বে আঘাতকারী মরণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্বের অনেক বড় বড় পরাশক্তি দেশগুলোকে একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়েছে। 

কোন যুদ্ধ নয়, অস্ত্রের দামামা নয়, বহিঃ শত্রুর আক্রমন নয়, ভূ-খন্ড দখল নয়, কোন ট্রয় নগরীর হেলেন কে নিয়ে নয়, তেলের খনি দখল নিয়ে নয়, কোন ভৌগোলিক অথবা নটিক্যাল সীমারেখা নিয়ে নয়, আন্তর্জাতিক কোন জোট বজায় রাখা বা ভেঙ্গে ফেলা নিয়ে নয়। নো ব্রেক্সিট, নো ইইউ, নো সার্ক, নো ওপেক, নো এপ্যেক। কোন ইস্যু ছাড়াই প্রায় একযোগে গোটা বিশ্বকে থামিয়ে দিয়েছে অদেখা মরণঘাতী করোনা ভাইরাস। সৃষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মৃত্যুকে জয় করার সংগ্রাম মানুষের আজীবনের। মানুষ আজন্ম সংগ্রাম করেই চলেছে এভাবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিত্য নতুন ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য প্রতিষেধক আবিস্কারে মানুষ সাকসেসও হয়েছে বার বার। মানুষের এ বিজয় অবারিত এবং অনন্ত কাল ধরে বহমান।

বিজয়ের অব্যাহত ধারায় মানুষ জয় করেছে যক্ষা, কলেরা, টাইফয়েড, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, ম্যালেরিয়া, থ্যালাসেমিয়া, প্লেগ, এনথ্রাক্স, ইবোলা, সার্স, হেপাটাইটিস, হেপাটাইটিস-বি সহ আরো অনেক মরণঘাতী ভাইরাস ও ভাইরাস বাহিত রোগ ব্যাধিও।

পৃথিবীর ব্যাস, ব্যাসার্ধ ঘুরে করোনা তার ভয়াল আঘাত হানতে বাদ দেয়নি আমাদের এই প্রাণের বাংলাদেশকেও। বাংলাদেশও আজ অবধি পেরেশান হয়ে ওঠেছে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে। এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে ১৭৫ এর বেশি। তাছাড়া আক্রান্তের সংখ্যাও সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নিম্নে আমি বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ আপডেট তুলে ধরছি।

আজ দুপর ৩:০০ পর্যন্ত সর্বশেষ আপডেট হলো নিম্নরুপঃ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭৫ জনে। আক্রান্ত হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৫২ জন। ফলে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল আট হাজার ৭৯০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৭ জন। (তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন)।

বাংলাদেশে ২০১৯-২০ করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীটির প্রথম সংক্রমণ ঘটে ৮ই মার্চ ২০২০ সালে (১ মাস, ৩ সপ্তাহ ও ৪ দিন বা, ১ মাস ২৩ দিন বা, ৫২ দিন)। আজ ২ মে, ২০২০। এভাবে দিনের পর দিন যাচ্ছে, অথচ নাভিশ্বাস এর দিন গুলো যেন একদমই ফুরোচ্ছেনা। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।

ইতালী, স্পেন, জার্মানী, ফ্রান্স, যুক্তরাাজ্য, মার্কিন যুক্তরাজ্য এর মতো করে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশই আজ আক্রান্ত। তেমনি একটি দেশ ইকুয়েডর। ইকুয়েডরের সবচেয়ে জনবহুল শহর গুয়াইয়াকিল। এই গুয়াইকিলে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মানুষজন যে শুধুমাত্র জনাকীর্ণ হাসপাতাল মারা যাচ্ছে তা কিন্তু নয়, এখানে মানুষকে রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ইকুয়েডর-এ কোভিড-১৯ এর কারণে বাড়িতে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মরদেহগুলো সরিয়ে নিতেও কয়েকদিন সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ মরদেহ সরিয়ে নেয়ার তালিকার জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

এ মহাসংকট এর লগ্নে করোনা ভাইরাসের যুগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ছোটবড় সব গণমাধ্যমই বিশ্বজুড়ে এবং নিজ নিজ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা, সুস্থ হওয়ার সংখ্যা, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে সুস্থ্ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রতিনিয়ত হালনাগাদের তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে খবর সংগ্রহে নিমিত্তে অনেকেই অনেক ‘সোর্স’ এর আশ্রয় নিচ্ছেন।আমি দেখতাম প্রথম আলো, জাগোনিউজ, ঢাকা টাইমস, সময় টিভি লাইভ, আমাদের সময়, আবার কেউ কেউ সিএনএন-বিবিসির মতো বড় নিউজ চ্যানেলের আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ আবার ভয়েস অব আমেরিকা কিংবা বড়বড় পত্রিকা থেকে খবর সংগ্রহ করছেন।কেউ বা দেখছে আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট। দেশীয় ও বিদেশী বার্তা সংস্থাগুলো তো আছেই।

এমনই এক দুঃসময়ে সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য ভরসার নাম ‘Worldometer’ নামক ওয়েবসাইট।ক্রিকেট প্রেমী হিসাবে কোন ওয়ার্ল্ড টু্র্নামেন্ট, আইপিএল, বিপিএল কিংবা ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার সময় যেমন করে নিয়ম করে খেলার স্কোর দেখার জন্য ক্রিক ইনফো দেখতাম ঠিক তেমনি এখন নিয়ম করে Worldometer দেখি, এতে বাংলাদেশের সিরিয়ালটা ক্রমশ উপরের দিকেই এগুচ্ছে। অসংখ্য ডেভেলপার, গবেষক এবং স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কাজ করা এই আন্তর্জাতিক সাইটটি ৩৪ টি ভাষায় সহজলভ্য। ২০০৭ সালে শুরু হলেও এটি বিশ্বব্যাপী এখন অনেক হয়েছে এবং গ্রিনিচ মিন টাইম অনুযায়ী আপডেট হচ্ছে প্রতিদিন কভিড-১৯ মহামারী বা করোনার তথ্য।

বাংলাদেশে অনেকে অবশ্য আশার বাণীও শোনাচ্ছেন। তারা বলছেন, এ পরিসংখ্যান নিম্নগামী হবে।বাংলাদেশে করোনা হিসাব নিকাশে ভুল হবার কারণেই এটা হচ্ছে। করোনা উপসর্গ আছে এমন রোগীদের সঠিক পরীক্ষা নিশ্চিত করে আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হলে করোনা রোগে মৃত্যু হার বাংলাদেশে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ হবে এটা মোটামুটিভাবে হলফ করে বলা যায়। কারন বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ এবং এখানকার জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। তাই এখানে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর ঝুঁকিটা অত্যন্ত বেশি।যদি এইভাবেই যদি করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ এর হার বাড়তেই থাকে, তাহলে বাংলাদেশ ও হতে পারে বিশ্বের অন্যতম মৃত্যপুরী।

এই পরিসংখ্যান যদি সত্যি হয় তাহলে একবার চোখটি বন্ধ করে ভাবুন কতোটা ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছি বাংলাদেশের সব মানুষ, কতটা রিস্ক এর উপর আছি আমরা ষোল কোটি মানুষ বা তার ও বেশি। যারা আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইকুয়েডর, ইতালির মৃত্যুর হার নিয়ে চিন্তিত, যারা এখনো শরীরে বাতাস লাগিয়ে ঘুরছেন তাদের বলছি, যারা নিশ্চিন্ত মনে আরামে ঘুরছেন, ঘুরাফেরা করছেন একেভারে ভাবলেশহীনভাবে, আমরা কি একবারও ভাবছি , কি ঘটতে চলেছে বা কি ঝড় ধেয়ে আসছে আমাদের দেশে।

আমাদের ভাগ্যাকাশে মুক্তির লাল সুর্য উঠবে তো, নাকি পলাশি প্রান্তরের আম্রকাননে মীরজাফরের মতো মীরজাফরির কারণে অস্তমিত হবে সে স্বাধীনতা? আজ যারা রাষ্ট্রীয় আইন না মেনে অবাধে অপ্রয়োজনে ঘুরাফেরা করছেন, ছড়িয়ে দিচ্ছেন কিন্তু সবার অলক্ষে জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। রাষ্ট্রীয় আইন না মানা একটা বড় অপরাধ।এতোদিন আমরা বাংলাদেশের আপগ্রোয়িং জিডিপি হার দেখে বলতাম, এতো সাল নাগাদ আমরা উন্নয়নশীল/মধ্য আয়ের/উন্নত দেশে পরিণত হবো। আমাদের হ্নদয় আশা জাগানিয়ার মতো জাগ্রত হতো।আমরা পুলকিত হয়ে উঠতাম।তাহলে এবার করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার দেখে কি বুঝে নিতে পারছি কি পরিণতি সামনে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য?

আরেকবার ভাল করে ভাবুন।এই দেশটা আমাদের। দেশটাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করার দায়িত্বও আমাদের সকলের। দয়া করে কেউ আর নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেবেন না। অনেক তো হলো! অনেক দায়িত্ব হীনতার পরিচয় আমরা ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছি।এবার অন্তত একটু সজাগ হোন।

জাতির সামনে বিনম্র অনুরোধ করছি, দয়া করে সবাই নিজের এবং নিজ পরিবারের কথা চিন্তা করে হলেও সচেতন হোন। নিজের সন্তান টার কথা ভাবুন। জনসমাগম এবং শারীরিক দূরত্ব যথাসম্ভব বজায় রাখুন। অযথা বাজারে বন্দরে যাবেন না, অযথা ভীড় জমাবেন না। যেখানে সেখানে হ্যাঁচ্চু দিবেন না। ব্যাক্তিগত রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন।মাস্ক ব্যবহার করুন।আপনার হাঁচিতে অন্যদের ক্ষতিগ্রস্হ করবেন না। সামান্য কাজে অথবা, তুচ্ছ কাজে ব্যাংকে যাবেন না এবং ভীড় জমাবেন না। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত থাকতে চেষ্টা করুন।

আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলছি, আপনারা অনেক চেষ্টা করছেন তাতে কোন সন্দেহ নয়। তবে তৃণমুল ও মাঠ পর্যায়ে অনেক বঞ্চনা ও হয়রানির অভিযোগ আসছে যা খুবই দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের উন্নততর সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী সমন্বয় সাধনমূলক বৈষম্যহীন সুব্যবস্হাপনার দিকেই পুরো জাতির নজর।একটা দেশ, একটা জাতি চেয়ে আছে আপনাদের সুন্দর অভিভাকত্বের দিকে। সুতরাং কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, আর চিকিৎসার অভাবে বা চিকিৎসাজনিত হয়রানিতে যাতে কারো মৃত্যু না হয়, সেই সমন্বয় সাধনমূলক প্রতিরোধের ব্যবস্হা করুন। সবাই এক হয়ে দেশের সকল পর্যায়ের বিজ্ঞজন এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুন। কারণ এই অদেখা ভাইরাস করোনা কাউকেই ছাড়েনি, কাউকে ছাড়বেওনা। করোনা কোন ব্যাক্তি, জাতভেদ চিনেনা। করোনা সকলের অভিন্ন শত্রু। আমরা সবাই এর শত্রু।

ভয়াবহ রুদ্ধশ্বাসে কাটালাম ভয়ংকর এপ্রিল মাস টি। হতাশা, টেনশন, শংকা, আতংক আর মৃত্য গ্রাসের বিপরীতে যুদ্ধ করে করে কাটালাম এপ্রিল মাস টি। এপ্রিল মাসে সারা দুনিয়ায় ভয়াবহতার তান্ডব লীলা দেখেছে বিশ্ববাসী। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসটা ব্যাতিক্রম। ভুবন জুড়ে মৃত্যর লাইন পড়ে গেল। একের পর এক দেশে ও বিদেশে সব নামি দামি মানুষ গুলো মরে যাচ্ছে। মৃত্যুর এ কাতার যেন অনেক লম্বা। আর সাধারনের মৃত্যুতো আছেই। এই সাধারনের তালিকাতো আর কেউ খোঁজ রাখেনা। না জানি কখন এই সাধারন মানুষের মৃত্যুর এ কাতারে কখন যুক্ত হয় আমার নাম। ব্যাংকার, ডাক্তার, সাংবাদিক, পুলিশ, অভিনেতা কতজনের মহাপ্রয়ান দেখেছি এই এপ্রিলে। সরকারের উপসচিব ও দূর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান, সম্মুখ সমরের যোদ্ধা, গরীবের ডাক্তার বলে খ্যাত সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈন উদ্দিন, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ, এমপি; বীর মুক্তিযোদ্ধা নারীনেত্রী রাখিদাশ পুরকায়স্থ; মাননীয় আইনমন্ত্রীর মাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক; বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্যামেরাপারসন রোজিনা আক্তার; বাংলাদেশের প্রথম অর্থ সচিব, সাবেক সংসদ সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক খন্দকার আসাদুজ্জামান; প্রতিভাবান প্রকৌশলী ও জাতীয় অধ্যাপক, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এর বর্তমান উপাচার্য ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী; প্রিয় অভিনেতা ইরফান খান ও ঋষি কাপুর; সাংবাদিক হুমায়ূন কবির খোকন; তিন জন বীর পুলিশ সদস্য- কনস্টেবল মোঃ জসিম উদ্দীন, এএসআই আব্দুল খালেক ও কনস্টেবল আশেক মাহমুদ, ব্যাংকার মুজতবা শাহরিয়ার সহ নাম জানা-অজানা এমনি আরও কত জন! উত্তপ্ত বিশ্বের বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মুজতবা শাহরিয়ার মারা গেছেন।

উপরের অনেকেই কেউ করোনায় কেউবা বার্ধক্যজনিত কারনে, কেউবা অন্য কোন রোগে মারা গেছেন। কিন্তু আমরাতো হারিয়েছি এই সবাইকে। খুব নাভিশ্বাস লাগে, দম বন্ধ হয়ে আসে। এভাবে আর কত মৃত্যু দেখবে মানুষ? এভাবে আরো কতজন, এর শেষ কোথায়? কবে দেখব একটা নতুন সকাল যখন থাকবেনা আর করোনায় মৃত্যুভয়। এত এত মৃত্যুর সকল শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করবো, ইনশাআল্লাহ।

আজ পহেলা “মে” এর নিপিড়ীত শ্রমিকদের মুক্তির চেতনাকে জাগ্রত করে এসো ডাক তুলি বিশ্ব মানবতার মুক্তির। এসো আশা জাগাণিয়ার গান ধরি, চলো এই মহাযুদ্ধে আমরা প্রত্যেকেই যোদ্ধা হই এবং জয় করি একটি নতুন বিশ্বের। সূচিত হোক একটি নতুন স্বাস্হ্যকর পৃথিবীর। বাংলাদেশকে আমরা মৃত্যুপূরী হতে দিবনা। আমরা যোদ্ধা হব, আমরা বিজয় আনবই, আমরা মুক্ত করবই এই দেশটাকে আমাদের বিশুদ্ধতা, আমাদের শুদ্ধাচার, আমাদের আত্নিক অনুশোচনা ও স্রষ্টার কাছে সাহায্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে। আমাদের এই মনোঃদৈহিক শুদ্ধাচারের অভ্যাসটা দীর্ঘস্হায়ী হোক। হতাশার কাফনো মোড়ানো নিকষ কালো অন্ধকার বিভাবরী কাটিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষায় পুরো বিশ্ব, পুরো বাংলাদেশ। আমরা তবুও আশাবাদী, প্রতিটা মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ঘুুরে দাঁড়াবেই।

লেখকঃ ব্যাংকার ও কলামিস্ট

Facebook Comments

পড়া হয়েছে 793 বার
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
x